Sunday, March 6, 2016

পূবাকপা (এম-এল)-এর সাথে সংশ্লিষ্ট নেতা-কর্মী-জনগণের উদ্দেশ্যে পূবাসপা (সিসি)’র খোলাচিঠি


পূবাকপা (এম-এল)-এর সাথে সংশ্লিষ্ট নেতা-কর্মী-জনগণের উদ্দেশ্যে
পূবাসপা (সিসি)’র খোলাচিঠি

কমরেডগণ,
লাল সালাম।

বিগত শতাব্দীর ’৬০-এর দশকের শেষ দিকে রুশ-চীন মহাবির্তক, চেয়ারম্যান মাওয়ের নেতৃত্বে মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লব (জিপিসিআর) এবং কমরেড চারু মজুমদারের নেতৃত্বে ভারতের নকশালবাড়ীর সশস্ত্র কৃষক অভ্যুত্থানের প্রভাবে আমাদের দেশে মাওবাদী (তখন “মাও চিন্তাধারা” বলা হতো) আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে। সেই আন্দোলনের অংশ হচ্ছে আপনাদের পার্টি পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল) এবং আমাদের পার্টি পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি। ’৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাক-হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে এবং বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর রুশ-ভারতের দালাল শেখ মুজিবের নেতৃত্বে আওয়ামী-বাকশালী স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে ’৭১’৭৪ সালে এই দুই পার্টিসহ অন্যান্য মাওবাদী পার্টি ও সংগঠনসমূহ গৌরবময় সশস্ত্র সংগ্রাম পরিচালনা করেছিল। এই সংগ্রামেই আমাদের ও আপনাদের পার্টি-নেতা কমরেড সিরাজ সিকদার ও কমরেড মনিরুজ্জামান তারাসহ অনেক মাওবাদী শহীদ হন।
’৭৬ সালে চেয়ারম্যান মাওয়ের মৃত্যুর পর দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনের মহাসংকটকালে মাওবাদ অনুসারী কোন কোন সংগঠন ও বেশিরভাগ নেতা সংশোধনবাদে গড়িয়ে পড়ে। কোন কোন সংগঠন বিলুপ্ত হয়ে যায়। কিন্তু আপনাদের ও আমাদের এই দুই পার্টিসহ কমরেড ননী দত্ত (ক. মোশতাক)-এর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (মা-লে) মাওবাদী পতাকা, বিশেষত মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লব ঊর্ধ্বে তুলে ধরে। এই প্রক্রিয়ায়
’৮০-র দশকে আমাদের পার্টি মাদারীপুর-শরীয়তপুর-নরসিংদী-ময়মনসিংহ-রাজবাড়ী-উত্তরাঞ্চলসহ ২৪টি জেলায় এবং ’৯০-এর দশকে আপনাদের পার্টি দেশের পশ্চিমাঞ্চলে দৃষ্টিকাড়া সশস্ত্র সংগ্রাম গড়ে তোলে। যদিও শাসকশ্রেণি ও রাষ্ট্রযন্ত্রের দমন-নির্যাতন এবং মাওবাদী আন্দোলনের মধ্যে বিরাজমান ভুল-ত্রুটির কারণে সেই সংগ্রাম পরাজিত হয়।

’৭৯ সাল থেকেই রাজনীতি ও মতাদর্শকে কেন্দ্রে রেখে আমাদের সংগঠন ধাপে ধাপে তত্ত্ব-অনুশীলন-তত্ত্বÑ এই মালেমা প্রক্রিয়ায় অতীত সংগ্রামের সারসংকলন চালাতে থাকে। ইতিপূর্বে ’৮০-র দশকেই আমাদের পার্টি বিশ্ব মাওবাদীদের ঐক্য-কেন্দ্র আর.আই.এম. (রিম) এবং দক্ষিণ এশিয়ার মাওবাদীদের সমন্বয় কমিটি কমপোসা’র সদস্য হয়েছিল। এই আন্তর্জাতিকতাবাদী নতুন ভূমিকাও আমাদের সারসংকলন কাজকে বিরাটভাবে প্রভাবিত করে।
 স্বাভাবিকভাবে এই সারসংকলনকে কেন্দ্র করে পার্টিতে দুই লাইনের সংগ্রামও চলে। একবার পার্টি বড় আকারে বিভক্তও হয়। এসবেরই ধারাবাহিকতায় ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত পার্টির একটি জাতীয় প্রতিনিধি সম্মেলনে “মাওবাদী আন্দোলনের চার দশকের সারসংকলন” নামে একটি “নতুন থিসিস” আমাদের পার্টি গ্রহণ করেছে। যার ভিত্তিতে এখন দেশের সমগ্র মাওবাদী আন্দোলনকে পুনর্গঠন করে একটি নতুন ধরনের ঐক্যবদ্ধ মাওবাদী পার্টি গঠন এবং নতুন ধরনের গণযুদ্ধ গড়ে তোলার প্রচেষ্টা আমাদের পার্টি চালিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে আপনাদের পার্টি পশ্চিম অঞ্চলের সংগ্রাম, বিপর্যয় ও পরাজয়ের পরবর্তীতে বিভিন্ন বিতর্কের প্রক্রিয়ায় তিনভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এ বিভক্তিতে লাইনগত সংগ্রাম খুব একটা স্পষ্টভাবে উঠে আসেনি বলে আমাদের কাছে মনে হয়েছে, যদিও পরবর্তীতে রাজনৈতিক-মতাদর্শগত লাইনগত প্রশ্নাবলীর পার্থক্য কিছু কিছু স্পষ্ট হতে থাকে।
এই বিভক্ত অংশগুলোর মধ্যে ক. রাকেশ কামাল (ক. রাকা)-এর নেতৃত্বাধীন “লাল পতাকা” গ্রুপ নামের অংশটি কমপোসা’য় যোগদান করে এবং পূবাকপা’র বিগত সংগ্রামের সারসংকলন প্রক্রিয়া শুরু করে। সে প্রক্রিয়ায় ক. রাকা “সারসংকলন প্রতিবেদন (প্রাথমিক) খসড়া রূপরেখা” নামক একটি দলিল প্রণয়ন করেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দলিলটি সিসি কর্তৃক অনুমোদন এবং পার্টি-ব্যাপী ব্যাপক কোন আলোচনার পূর্বেই তিনি র‌্যাবের ভুয়া ক্রসফায়ারে শহীদ হন। এর আগেই ক. মোফাখ্খার চেীধুরী এবং ক. তপন একইভাবে শহীদ হন। শুধু এই নেতৃত্বগণই নন, আপনাদের পার্টির তিনটি কেন্দ্রের অধিকাংশ নেতৃত্বই শত্রুর হাতে শহীদ হন অথবা গ্রেফতার হন। এভাবে, আমরা ধারণা করি যে, তিনটি কেন্দ্রই অকার্যকর হয়ে যায়।
এভাবে আপনাদের পার্টি গুরুতর সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। কর্মী-জনগণ পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন ও দিশাহীন হয়ে পড়েছেন। কোন কেন্দ্রই পার্টির নেতৃত্বাধীন সংগ্রামকে অব্যাহত রাখতে পারেনি বা সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা রাখতে পারেনি। বিচ্ছিন্ন-বিক্ষিপ্ত কিছু উদ্যোগ দেখা গেলেও সুসংগঠিত কোন সাংগঠনিক কাঠামো পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

 পার্টি-পুনর্গঠনের বিষয়ে আমাদের জানা কিছু পর্যবেক্ষণ এখানে তুলে ধরছি
 ক. চেীধুরী শহীদ হওয়ার পর সেই কেন্দ্রের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন এবং এখনও তার লাইনের অনুসারী দাবিদার একটি ধারাকে ক্রিয়াশীল দেখা যায়। আমাদের জানামতে এই ধারাটি এখনো পর্যন্ত পার্টির কোন দলিলপত্র-পত্রিকা-লিফলেট কিছুই প্রকাশ করেনি। এরা সাংস্কৃতিক গণসংগঠনসহ বিভিন্ন ধরনের গণসংগঠনের মাধ্যমে কার্যক্রম চালান। যা কমরেড চেীধুরীর লাইনের সাথে মেলে না। আবার তারা চেীধুরী-লাইনের কোন সারসংকলনের কথাও বলছেন না।
 ক. রাকেশ কামাল এবং তার পরবর্তী নেতৃত্ব ক. এনামুল শহীদ হওয়ার পর তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন এমন কয়েকজন কমরেড শত্রুর দমন থেকে আত্মরক্ষার জন্য কৌশল হিসেবে পার্র্র্টির নাম পরিবর্তন করে “বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী)” নামে সংগঠন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। একটা বৈঠকের পর তাদের তৎপরতা অব্যাহত থাকেনি। এই ধারাতেই অন্য একটি অংশ ২০১১ সালে “২২ মে শহীদ দিবসে” (ক. তারার মৃত্যুবার্ষিকীতে) “পূর্ব বাংলার মাওবাদী” নাম দিয়ে সংগঠনের একটি পোস্টার প্রকাশ করেছিল। পরে আর এই নামে কোন তৎপরতা দেখা যায়নি। এই ধারারই অন্য একটি অংশ ১৯/০৩/’১১ তারিখে সার্কুলারÑ ১ নামে একটি দলিল প্রকাশ করেছিল যাদের কেন্দ্র পূবাকপা (মা-লে) (লাল পতাকা) নামটি উল্লেখ করেছে। এতে ক. রাকা’র সারসংকলনের ভিত্তিতে পার্টি পুনর্গঠনের কথা বলা হলেও বাস্তব অনুশীলনে সেই লাইনের কোন প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না বলে আমাদের মনে হয়। এই সার্কুলার অনুসারীরা এখনো সক্রিয়। এরা এখনো খতম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি করেন। তাদের কৌশল হচ্ছে, শত্রুর চাপ এড়ানোর জন্য কিছু অনিবার্য খতম করলেও তা প্রচার করেন না। পার্টির দায় স্বীকার করেন না।
 সম্প্রতি আরো একজন নেতৃত্ব যিনি অতীতে জনযুদ্ধের সাথে যুক্ত ছিলেন তিনি পার্টি পুনর্গঠনের চেষ্টা করছেন বলে শোনা যায়। যতদূর জানা যায় তিনিও মতাদর্শগত-রাজনৈতিক লাইনকে কেন্দ্রবিন্দু করছেন না। বরং পূর্বের ধারাতেই সামরিক এ্যাকশন, তথা খতমকে কেন্দ্রবিন্দু করছেন। তার বা তার অনুসারীদের পক্ষ থেকে এখনো কোন দলিলপত্র প্রকাশ হয়েছে বলে আমরা জানি না।

এইসব উদ্যোগে বিপ্লবের প্রতি গভীর আন্তরিকতা থাকলেও সেগুলো মাওবাদী রাজনীতি ও মতাদর্শকে চাবিকাঠি হিসেবে আঁকড়ে ধরছে না বলেই আমাদের ধারণা। পার্টি-গঠনের ৪০ বছর পর পার্টির আজকের বিপর্যস্ত ও ক্ষয়িষ্ণু অবস্থার কারণ অনুসন্ধানের জন্য লাইনগত সারসংকলনের ভিত্তিতে পার্টি-পুনর্গঠনকে কেউই কেন্দ্রবিন্দু করছেন না।
মনে রাখতে হবে পূবাকপা একটা মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টি ছিল। যার রাজনীতিক লক্ষ্য ছিল নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব, সমাজতন্ত্র ও কমিউনিজম। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য প্রধান ধরনের সংগ্রাম ছিলো সশস্ত্র সংগ্রাম। তার মতবাদ ছিল মালেমা। সেই পার্টি ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে শত্রু-দমনে। এ অবস্থায় প্রথম ও প্রধান কাজ হচ্ছে সেই পার্টিকে গঠন বা পুনর্গঠন করা। যেহেতু সশস্ত্র সংগ্রামের পার্টি তাই আজকের বাস্তব ও আত্মগত অবস্থা বিবেচনা করে পার্টি পুনর্গঠন করতে হবে। এখন লাইন বিনির্মাণ তথা লাইনগত সারসংকলন না করে এই পার্টির পক্ষে আর ইতিবাচকভাবে এগুনো সম্ভব নয় বলেই আমরা মনেকরি। ঠিক যে কাজটিতে হাত দিয়েছিলেন ক. রাকা ৫ বছর আগেই। এবং তার একটি বড় ও মৌলিক কাজ তিনি সম্পন্ন করে গিয়েছিলেন। অথচ বিগত ৫ বছরে সেকাজে আর কোন অগ্রগতি দূরের কথা, সে কাজটিকেই প্রায় বিস্মৃত করে দিয়ে পুরনো ধারায় বিচ্ছিন্ন-বিক্ষিপ্ত এ্যাকশনের প্রচেষ্টা এই পার্টিকে কোন অগ্রগতিই এনে দিতে পারে না।
আজকে সংগ্রামের/এ্যাকশনের নেতৃত্ব কে দিবে? নিশ্চয়ই পার্টি। সেই পার্টি কোথায়? চেয়ারম্যান মাও সেতুঙ বলেছিলেন, “যদি বিপ্লব করতে হয়, তাহলে অবশ্যই একটা বিপ্লবী পার্টি থাকতে হবে। একটা বিপ্লবী পার্টি ছাড়া, মার্কসবাদী-লেনিনবাদী বিপ্লবী তত্ত্ব এবং বিপ্লবী রীতিতে গড়ে ওঠা একটা বিপ্লবী পার্টি ছাড়া, শ্রমিক শ্রেণি ও ব্যাপক জনসাধারণকে সা¤্রাজ্যবাদ ও তার পদলেহী কুকুরদের পরাজিত করতে নেতৃত্বদান করা অসম্ভব।” (উদ্ধৃতি পৃঃ ২-৩)। কয়েকটি ব্যক্তি হলেই পার্টি হয় না। প্রথমত একটি সামগ্রিক লাইন তার থাকতে হবে, তার একটি কেন্দ্র ও গঠন কাঠামো থাকতে হবে। একটি পরিকল্পনা থাকতে হবে। সেগুলো সুদূর অতীতে আপনাদের ছিল। তার ভিত্তিতে সংগ্রামও হয়েছে। কিন্তু তার ভাল-মন্দ সবই প্রকাশিত হয়ে সেসব অতীতের বিষয় হয়ে গেছে। এখন পরিবর্তিত বাস্তব ও আত্মগত অবস্থার প্রেক্ষিতে সেসবকেই নতুন করে নির্মাণ না করলে পার্টির কার্যত কোন সঠিক লাইন থাকতে পারে না। আর এ অবস্থায় কোন পার্টিও গড়ে উঠতে পারে না। তাহলে কে করবে এ্যাকশনের নেতৃত্বদান?

কমরেডগণ,
এটা খুবই জটিল পরিস্থিতি। একটা বিকাশমান সংগ্রাম পরাজিত হয়েছে। পার্টি যখন সংগ্রামে ছিল তখনকার কৌশল-পরিকল্পনা আজকের বিপর্যয়ের বাস্তবতায় আর কার্যকর করা সম্ভব নয়। আজকের আত্মগত অবস্থা মূল্যায়নের ভিত্তিতে নতুন করে কৌশল-পরিকল্পনাও করতে হবে।
পূবাকপা’র বিচ্ছিন্ন কমরেডদেরকে আমরা মনে করি এ দেশের মাওবাদী আন্দোলনেরই অংশ। আমরা ভিন্ন ভিন্ন পার্টি থেকে চল্লিশ বছরের বেশি এই ভূখ-ে সংগ্রাম করছি। পূবাকপা এখন শত্রুর দমনে বিপর্যস্ত। আমাদেরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শত্রুপক্ষ এই দেশ থেকে মাওবাদী আন্দোলনকে নিশ্চিহ্ন করতে চায়। একে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে আন্দোলনকে রক্ষা ও বিকশিত করতে হবে। সেজন্য আমাদের অতীত সংগ্রামের পর্যালোচনা-সারসংকলনের ভিত্তিতে নতুন পরিকল্পনার ভিত্তিতে আগাতে হবে। ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন হিসেবে পূবাকপা’র বিচ্ছিন্ন-বিপর্যস্ত কমরেডদেরকে পরামর্শ দেয়া, সহযোগিতা করার দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা এই খোলাচিঠি প্রকাশ করছি, যাতে আমরা কিছু পরামর্শও উল্লেখ করতে চাই। আমরা এসব পরামর্শ আপনাদের উপর চাপিয়ে দিতে চাই না। লাইন-নীতি-পরিকল্পনা নির্ধারণ করা প্রধানত আপনাদেরই দায়িত্ব। সেক্ষেত্রে আমাদের পরামর্শ যদি কোন সহায়তা করে সে আশাতেই আমরা এসব কথা বলছি।
কমরেডদেরকে মনে রাখতে হবে নানান জায়গা থেকে নানান ধরনের মতামত আসবে। সুবিধাবাদী-বিলোপবাদী মতও আসবে। মালেমা’র বিপ্লবী দৃষ্টিভঙ্গিতে বিচার-বিশ্লেষণ করে তা গ্রহণ বা বর্জন করতে হবে। বলার অপেক্ষা রাখে না সেক্ষেত্রে আপনাদের বিপ্লবী দৃষ্টিভঙ্গিই আপনাদেরকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারে, অন্য কেউ নয়।

* সংকীর্ণতাবাদী চেতনা থেকে বিভক্ত কোন কেন্দ্র নয়Ñ সমগ্র পূবাকপা-কে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিতে হবে, যা কিনা হবে বাস্তবে এদেশের সামগ্রিক মাওবাদী আন্দোলনের পুনর্গঠনেরই অংশ।
* পুনর্গঠনের জন্য প্রথম আঁকড়ে ধরতে হবে লাইন বিনির্মাণকে, যার মতাদর্শগত ভিত্তি হবে মালেমা।
আরও নির্দিষ্টভাবে এজন্য
- বিগত শতকে শেষাংশে আন্তর্জাতিক মাওবাদীদের ঐক্যকেন্দ্র “রিম” (যা এখন কার্যত বিলুপ্ত) ও তার সদস্য 
   গুরুত্বপূর্ণ পার্টিগুলোর মূল্যায়ন ও সারসংকলনকে বিবেচনায় নেয়া;
- ক. সিএম প্রতিষ্ঠিত ভারতের মাওবাদী আন্দোলনের সারসংকলনকে বিবেচনায় নেয়া;
-পূবাকপা’র সংগ্রাম সম্পর্কে পূবাসপা’র পর্যালোচনাকে বিবেচনায় নেয়া; ক. রাকেশ কামালের সারসংকলনকে বিবেচনায় নেয়া;
- অন্য যে কোন মত আসলে সেগুলোকেও বিবেচনায় নেয়া।

* এই দৃষ্টিভঙ্গিতে নি¤œতমভাবে নি¤েœর মৌলিক বিষয়গুলোতে নিজেদের অবস্থান তৈরি করা
×× মতবাদগত;
×× গণযুদ্ধ;
×× আর্থ-সামাজিক;
×× আন্তর্জাতিক লাইন।

* লাইন-বিনির্মাণ ও সারসংকলনকে কেন্দ্রবিন্দু করার জন্য ও তার স্বার্থে পুরনো ধারার সকল অনুশীলনকে স্থগিত করা উচিত বলে আমরা মনেকরি। যার মাধ্যমে শত্রুর দমনকে এড়িয়ে নিজেদের অবশিষ্ট শক্তিকে সংরক্ষণ করা যায় এবং তাকে সুসংগঠিত করা যায়।
যারা এভাবে পার্টিকে পুনর্গঠনে আগ্রহী তাদের মানোন্নয়ন প্রক্রিয়া শুরু করা। এজন্য নি¤œতম পাঠ্যসূচি ঠিক করা। পাঠ্যসূচির লক্ষ্য হবে মৌলিক মালেমা-কে আত্মস্থ করা এবং তার ভিত্তিতে উপরে উল্লেখিত বিষয়গুলোতে অধ্যয়ন, আলোচনা, পর্যালোচনাকে বিকশিত করা এবং একটি একটি করে বিষয়গুলোতে মতাবস্থান গ্রহণ করা।
* লাইন-বিনির্মাণের প্রক্রিয়ায় বাস্তব সাংগঠনিক-সাংগ্রামিক অনুশীলন কী হবে তাও নির্ধারিত থাকতে হবে। এজন্য যা যা করা যেতে পারে বলে আমাদের ধারণাÑ
- অবিলম্বে একটি কেন্দ্রীয় পরিচালনা সেল গঠন করে সমগ্র কাজের সূচনা করা। পরবর্তীতে কোন প্রতিনিধি সভার মাধ্যমে তাকে কমিটিতে রূপ দেয়া যেতে পারে।
- একটি বা দু’টি অঞ্চলকে নির্দিষ্ট করে সেখানে শক্তি কেন্দ্রীকরণের মধ্য দিয়ে ঘাসমূলের সংগঠন গড়ার প্রক্রিয়া চালানো।
- উপরোক্ত কাজকে ভিত্তি করে দেশব্যাপী বিচ্ছিন্ন যোগাযোগগুলো রক্ষার ব্যবস্থা করা। যতটা সম্ভব সেটা করা। কিন্তু তাকে কেন্দ্রবিন্দু না করা।
- রাজনৈতিক প্রচারকে গুরুত্ব দিয়ে পার্টিজান ও গেরিলা ধরনের কর্মী গড়ে তোলা।
- আর্থিক সামর্থ্য ও যোগ্যতা বিচার করে একজন একজন করে সার্বক্ষণিক কর্মী গড়ে তোলা; সার্বক্ষণিক কর্মীদের নিয়োগদানে সংগঠন-সংগ্রামের রণনৈতিক পরিকল্পনাকে ভিত্তি করায় গুরুত্ব দান।
-শ্রেণি লাইনকে আঁকড়ে ধরে আর্থিক পলিসি নির্ধারণ করা। পেশা, চাঁদা ও ব্যক্তিগত সম্পদের উপর নির্ভর করা। জরিমানা, শত্রুর সম্পত্তি দখল ইত্যাকার সামরিক যুগের পদ্ধতিকে এড়ানো।
 -নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার উপর অত্যধিক জোর দেয়া। শত্রুর অনুপ্রবেশকে ঠেকানো, আবার বেহুদা কাউকে শত্রু মনে না করা।

* উপরোক্ত কাজগুলোকে ভিত্তি করে এগুলে সামরিক এ্যাকশনের স্থানটি কী হবে সেটা বাইরে থেকে আমাদের পক্ষে নির্ধারণ করা সম্ভব নয় ও উচিত নয়। একটি সশস্ত্র সংগ্রামের পার্টি হিসেবে কোন কোন অঞ্চল/এলাকায় নিরস্ত্র কাজ আত্মঘাতী হতে পারে। আবার বিচ্ছিন্ন-বিক্ষিপ্ত সামরিক এ্যাকশন আরো বড় বিপর্যয়কর হতে পারে।
তবে এটা সহজবোধ্য যে, লাইন-বিনির্মাণ ও পার্টি-পুনর্গঠনের কাজ একটা পর্যায় পর্যন্ত সম্পন্ন না করে সামরিক কাজ/এ্যাকশনকে কেন্দ্রবিন্দু করাটা সঠিক হবে না বলেই আমরা মনে করি। কারণ, একবার শুরু করলে তা থেকে পিছন ফেরা যাবে না। সর্বোপরি, সংগ্রাম ও এ্যাকশনের মতাদর্শগত-রাজনৈতিক লাইন ও রণনৈতিক পরিকল্পনা কী হবে, যুদ্ধের/সশস্ত্র সংগ্রামের সামরিক লাইনের রূপরেখাটি কী হবে তা খুবই সুবিবেচিতভাবে নির্ধারণ না করে এখন আর আপনাদের পক্ষে কোন ইতিবাচক সংগ্রাম গড়া সম্ভব হবে না বলেই আমরা মনেকরি। তাই, আজকের পরিস্থিতিতে কোন্ অঞ্চল/এলাকাকে আপনারা কেন্দ্রীভূত করার জন্য বেছে নেবেন, এবং সেখানে কী ধরনের কাজ করবেন সেটা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে নির্ধারণ করতে হবে।
উপরোক্ত অনেক বিষয়েই আমরা আরো সুনির্দিষ্ট কথা বলতে পারি, আলোচনা করতে পারি, যা এই খোলাচিঠিতে সম্ভব নয়। আমরা মনেকরি, শুধু আমাদের সাথেই নয়, অন্য সকল আন্তরিক মাওবাদী সংগঠন, ব্যক্তি ও শক্তির সাথেই এসব বিষয়েও আপনাদের প্রচুর আলোচনা ও মত বিনিময় করা উচিত। যাতে করে আপনারা সবচাইতে সঠিক নীতি-পরিকল্পনা ও পদ্ধতিগুলো অনুশীলনে নিয়ে আসতে পারেন।

** পরিশেষে বলতে চাই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর প্রায় ৪২ বছর পার হয়েছে। এই সময়ে দেশ শাসন করেছে বাঙালি বড় ধনী শ্রেণির প্রতিনিধি আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামাত এবং সেনা-আমলারা। এরা ধনীক শ্রেণি এবং তাদের প্রভু মার্কিনের নেতৃত্বে সা¤্রাজ্যবাদ ও ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের স্বার্থ রক্ষা ছাড়া শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্তসহ ব্যাপক জনগণের জন্য কোন কিছুই করেনি। বরং সব সরকারই বিপ্লবীদের, প্রতিবাদকারীদের হত্যা করে বিপ্লবী আন্দোলন দমন করে চলেছে। তাই, বিপ্লবীদের বিগত সংগ্রামের সারসংকলনের ভিত্তিতে নতুনভাবে সংগঠিত হতে হবে। উচ্চতর একটি লাইন, ঐক্যবদ্ধ ও নতুন ধরনের একটি পার্টির নেতৃত্বে একটা সত্যিকার সফল গণযুদ্ধ গড়ে তুলতে হবে। তাছাড়া অন্য কোন বিকল্প নেই।

 পিবিএসপি/সিসি
তৃতীয় সপ্তাহ, নভেম্বর, ২০১৪

Sunday, November 29, 2015

                                           প্রগতিশীল প্রকাশক হত্যার নিন্দা
 
                (পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির বিবৃতি/১ নভেম্বর, ২০১৫)
               
সাহসের সাথে সংগঠিত হোন! রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন!
একটি প্রগতিশীল রাষ্ট্র ও সমাজ নির্মাণে ব্রতী হোন!

গতকাল, ৩১ অক্টোবর ঢাকায় প্রায় একই সময়ে দু’জন প্রগতিশীল পুস্তক প্রকাশকের উপর সশস্ত্র সন্ত্রাসী আক্রমণ, জাগৃতি প্রকাশনীর মালিক দীপনকে হত্যা ও শুদ্ধস্বর প্রকাশনীর মালিক টুটুলসহ তিনজনকে গুরুতর আহত করার বর্বরোচিত ঘটনায় আমরা তীব্র ও নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছি। দৃশ্যত এটা ধর্মীয় মৌলবাদী তৎপরতা বলেই ধারণা করা যায়।
এ ধরনের সন্ত্রাসী তৎপরতার নিন্দা করাই যথেষ্ট নয়। এর সাথে বিশ্ব ও দেশিয় শাসকশ্রেণির সম্পর্ককেও অবশ্যই উন্মোচন করতে হবে, জনগণের প্রগতি ও মুক্তির বাধাকে সমগ্রভাবে বিরোধিতা করতে হবে এবং মুক্তির উপায় খুঁজতে হবে।
 বিগত এক বছরের কম সময়ে অভিজিত রায়সহ বেশ কয়েকজন বিজ্ঞান-লেখক ও ব্লগার হত্যার মধ্য দিয়ে এখানে ধর্মীয় মৌলবাদীদের সশস্ত্র তৎপরতার বিকাশ লক্ষ করা যায়। যারা জনগণের মূল শত্রুদের উপর আক্রমণের বদলে জনগণকে হত্যা করার প্রতিক্রিয়াশীল গণবিরোধী অপতৎপরতা চালাচ্ছে। গণবিরোধী রাষ্ট্রযন্ত্র ও শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী সরকার বুর্জোয়া রাজনীতিতে তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি-জামাতকে দমন করে নিজেদের কুক্ষিগত ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আর এ অভিপ্রায়ে এসবের জন্য বিএনপি-জামাতকে দায়ী করার মধ্য দিয়ে প্রকৃত মৌলবাদী সশস্ত্র গ্রুপগুলোকে রক্ষা করে চলেছে। এভাবে তারা প্রগতিশীল জনগণকে এই ধর্মীয় ফ্যাসিস্টদের আক্রমণের সহজ টার্গেটে পরিণত হতে কার্যত সহায়তা করছে। এদের কাছে ফ্যাসিবাদী আক্রমণের বিচার ও প্রতিকার চাওয়া অর্থহীন। কারণ, এরাও গণশত্রু ও ফ্যাসিস্ট। এদের সরকার, রাষ্ট্রযন্ত্র ও দলীয় কেডার বাহিনী একইভাবে অসংখ্য মানুষকে বিনা বিচারে ও বর্বরভাবে হত্যা করেছে ও করে চলেছে।
দেশের আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা ধর্মীয় মৌলবাদী শক্তির লালিত, পালিত ও বর্ধিত হওয়ার এক উর্বর ক্ষেত্র। যা গণশত্রু সাম্রাজ্যবাদের দালাল এখনকার শেখ হাসিনার আওয়ামী সরকারসহ প্রতিটি সরকার প্রতিপালন ও রক্ষা করে চলেছে।
বৈশ্বিক পরিসরে মার্কিনের নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদীরা, যারা হাসিনা সরকারসহ শাসকশ্রেণির প্রভু, তারাই ৮০-দশকে এই মৌলবাদীদেরকে সৃষ্টি করেছিল। তাই বিশ্বজুড়ে চাড়া দেয়া ধর্মীয় মৌলবাদী সশস্ত্র শক্তির সাথে বিশ্ব ও দেশিয় ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়াশীল বুর্জোয়া শাসক শ্রেণির রয়েছে প্রকাশ্য ও গোপন সম্পর্ক।
একইসাথে মধ্যযুগীয় সামন্তবাদী আদর্শের জেরে আধুনিক সাম্রাজ্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ ও দালাল বুর্জোয়া শ্রেণির সাথে তাদের দ্বন্দ্বও রয়েছে। বৈশ্বিক পরিসরে মার্কিনের নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদের তথাকথিত “সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধ”-র নামে বিশ্বব্যাপী বিশেষত মুসলিম জনগণের উপর বর্বর যুদ্ধাভিযান এই অপশক্তিকে বিকশিত হতেই ভূমিকা রাখছে। একইভাবে দেশে ভারতীয় সম্প্রসারণবাদীদের মদদে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনও একে বিকশিত হবার শক্তি যোগাচ্ছে।
একদিকে বিদেশি সাম্রাজ্যবাদ, বিশেষত বর্তমান হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের নির্লজ্জ দালাল শেখ হাসিনার রাষ্ট্রীয় ফ্যাসিবাদ, এবং অন্যদিকে সশস্ত্র প্রতিক্রিয়াশীল ধর্মীয় মৌলবাদী গোষ্ঠীর গণবিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল তৎপরতাকে সংগ্রাম করতে হলে বিপ্লবী গণস্বার্থ সম্পন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে জনগণের নিজেদের সশস্ত্র হতেই হবে। কারণ, একটি প্রগতিশীল রাষ্ট্র ও সমাজ নির্মাণ করতে হলে চলমান ব্যবস্থাকে ও তার প্রতিপালকদেরকে সমূলে ও সবলে উচ্ছেদ করা ব্যতীত অন্য কোন পথ নেই।
চলমান রাষ্ট্রীয় ফ্যাসিবাদ ও দালাল শাসকশ্রেণিকে বিরোধিতার নামে ধর্মীয় মৌলবাদে আশ্রয় নেয়া হলো এক বিভ্রান্ত ও পশ্চাদমুখী মধ্যযুগীয় ফ্যাসিবাদী পথ। তেমনি এইসব মৌলবাদকে বিরোধিতার নামে চলমান বিশ্ব ও দেশিয় ব্যবস্থার রক্ষকদের পক্ষাবলম্বন হলো আরো বড় মুর্খতা, গণবিরোধিতা ও প্রগতিবিরোধিতা।
সমাজতন্ত্র-কমিউনিজমের আদর্শ আজ সাময়িকভাবে দুর্বল হয়ে যাবার কারণেই দেশ ও বিশ্ব আজ এই দুর্যোগের সম্মুখীন। যারা আজ বুর্জোয়া গণতন্ত্রের নামে সাম্রাজ্যবাদ ও মুৎসুদ্দি ফ্যাসিবাদের পক্ষে দালালী করছে তাদের প্রতিক্রিয়াশীলতা, প্রতারণা, ভণ্ডামি ও ব্যর্থতা তুলে ধরাটাই এখনকার মূল কর্তব্য। সেজন্য জনগণকে সমাজতন্ত্র-কমিউনিজমের আদর্শে এই ব্যবস্থা উচ্ছেদের বিপ্লবী রাজনীতি ও সংগ্রামে সামিল হতে হবে। তাহলেই ধর্মীয় মৌলবাদী ফ্রাঙ্কেনস্টাইন থেকেও জনগণ মুক্ত হতে পারবেন। নতুবা দেশ ও জনগণকে আফগানিস্তান, সিরিয়ার ভাগ্য বরণ করতে হবে।

রাষ্ট্রীয় ও আওয়ামী ফ্যাসিবাদ এবং মধ্যযুগীয় ধর্মীয় মৌলবাদী ফ্যাসিবাদÑ একই মুদ্রার দুই পিঠ।
বুর্জোয়া গণতন্ত্রের মোহ ত্যাগ করুন! সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদ ও
দালাল বুর্জোয়া শাসক শ্রেণি ও তার ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রযন্ত্রকে উচ্ছেদ করুন!
সমাজতন্ত্র-কমিউনিজমের বিশ্বব্যবস্থার লক্ষে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদের আদর্শকে আঁকড়ে ধরুন!
বিপ্লবী রাজনীতির ভিত্তিতে জনগণকে সশস্ত্র করুন! মাওবাদী গণযুদ্ধ’র পথে এগিয়ে চলুন!

Saturday, February 8, 2014

A Brief History of Purbo Banglar Sharbohara Party
(Proletarian Party of Purbo Bangla/PBSP-Bangladesh)

Maoist movement in Bangladesh (the then East Pakistan) had developed under the influence of the great polemic between China and Russia, the Great Proletarian Cultural Revolution (GPCR) of China under the leadership of Mao Tse-tung and the armed peasant uprising of Naxalbari in India during 60's of last century.
Its worth mentioning that, the communist movement in our country had been initiated in undivided Indian subcontinent-- during the 20s of the last century. Though that movement made many positive contributions, but it failed to be a revolutionary communist movement. During Pakistani period, after undivided India, the same situation continued. The real revolutionary movement, which is familiar as Maoist movement, was actually initiated during 60s. Our Party, Purbo Banglar Sharbohara Party (Proletarian Party of Purbo Bangla/PBSP-Bangladesh) is a part of that very movement.
In mid 1967, under the leadership of comrade Siraj Sikder (SS), some sincere revolutionary established "Mao Tse-tung Thought Research Centre". This organization tried to understand "Maoism" (at that time it was called "Mao Thought") as the third stage of the ideology-Marxism-Leninism, and after study-consultation-debate, came to the decision to adopt "Maoism" as the 3rd stage in the development of the ideology of the prletariat.
Afterwards, on 8th January 1968, these young revolutionaries formed a preparatory organization named "Purbo Bangla Shramik Andolon"(East Bengal Workers Movement) with the aim of building a correct Communist Party. This organization published a historical document "Purbo Bangla Shramik Andoloner Thesis" (Thesis of East Bengal Workers Movement), with the aim of establishing Socialism-Communism through New Democratic Revolution in Purbo Bangla. Since that very time, the process of building professional revolutionary begun.
At the 1st phase in 1971, the political situation of Purbo Bangla began to develop very rapidly. The people of Purbo Bangla/East Bengal built a great mass uprising with the hope of national freedom by completely secede from the cluches of the ruling class of Pakistan.
But, on 25th March 1971, fascist Pakistani army launched a brutal genocide against the people of Purba Bangla. At that moment, Sheikh Mujib, the leader of Awami League, which was the political party of the new emerging Bangalee bourgeoise class, surrendered himself willingly to the Pakistani rulers. The other leaders of that party fled away to India. They afterwards started armed struggle against Pakistan with the direct patronage of Indian expansionism. On the other hand, comrade Siraj Sikder (SS), under his personal leadership, built a peoples war at Peara Bagan in the district of Barisal depending on peasant-masses with the aim of national liberation. Other Maoist organizations also started war against Pakistan being within the country.
In the midst of this war, on 3rd June 1971, a conference was convened, the former "Purbo Bangla Shramik Andolon" was abolished, and "Purbo Banglar Sharbohara Party (PBSP)" was formed as the communist party. Comrade SS was elected chairperson of this party. This party adopted "Marxism-Leninism-Mao tseTung Thought" as it's theoretical base.
Since the very beginning of the liberation war of '71, several armed groups, especially `Mujib Bahini' led by India and Awami League, started a killing mission against the Maoist revolutionaries. As a result, Maoists had to fight on both the fronts-- against the Pakistani army and Indian patronized armed groups. In September 1971, comrade SS was compelled to withdraw from Peara Bagan because of the all-out attack of the Pakistani fascists and he spread his activities in other areas of the country. In this situation, on 16th December 1971, Indian expansionists occupied the capital Dhaka city and put Awami league in power.
On the base of the analysis of the new political situation, Comrade SS convened the 1st congress of "PBSP" in 1972. He started a new armed struggle against Mujib's autocratic regime led by Awami League according to the line adopted by the Congress. Other Maoist forces also began struggle. A great wave of propaganda of revolutionary politics was done all over the country by the leadership of Maoist revolutionaries including Sharbohara Party. Many Many armed actions were done including armed propaganda, annihilation of mass-enemies, seizure of arms of the state police and so on. The revolutionary peoples army was developing under the leadership of the party. On 15th & 16th December '74, a general strike was observed all over the country by the call of the Party declaring 16th December, the so-called 'victory day' as the "black day".
Awami fascist govt. started fascist torture & supression as the reaction of those programs. Comrade SS was arrested on 1st January 1975, and he was killed in custody on the very next day, on 2nd January. Leaders of other Maoist organisations such as Moniruzzaman Tara, Badal Datta of East Bengal Communist Party(ML); Montu Master, Erad Ali of Sammyobadi Dol (BSD-ML) and thousands of Maoists were killed or arrested. Total struggle through-out the country was defeated and crushed.
Our party splitted due to the situation prevailing after the death of Comrade Siraj Sikder, severe supression and torture campaign by the gov. and the wrong lines of the party in different fields. Party fell in a grave crisis. In this situation, in April 1977, Party began a thorough summation process by the leadership of Comrade Anwar Kabir. And in an Expaded Meeting in 1979, some primary summation was adopted. Comrade Anwar Kabir was elected as the new party-secretary of PBSP. Organisation and struggle began to develop on the basis of the new summation. Sincere revolutionaries of the party began to unite again.
During this period, In 1984, our party joined RIM from it's very beggining. On the other side, during 1987-88, peoples war again spread all over the country under the leadership of our party. In 1987, after a long gap of 15 years, the 2nd National Congress of our party was held successfully amidst this new upsurge.
At that moment the state apparatus started a new suppression-torture campaign to eradicate the development of this nation-wide revolutionary struggle. Many comrades including CC-member com. Rumi, com. Shuvash became martyered. In 1988-89, the struggle again fell in crisis.
New initiatives of line-summation centering this disaster was taken by the party again. In 1992, 3rd National Congress was held to adopt this new summation and to re-organize the party. 2LS (two line struggle) began through-out the party on a large scale in 1994 in the process of practicing the line adopted at the congress. Until 2009-on one hand practical revolutionary practice and one the other hand 2LS and summation continued. In this process, the party summed-up the whole Maoist Movement of past four decades, which is known as the "New Thesis". 

This New Thesis evaluated about the past Maoist Movement like this-- 60-s and 70-s were the initial phase, which founded the basis of Maoist Movement. Then disaster, and summation-new development during 80-s, but couldn't cross its bounderies. During 90-s, rupture from the old line started, but it was incomplete. With the new century of 21st, the complete rupture started; and a line-summation of the last four decades of Maoist Movement of our country step by step. This can be called as a new era of revolutionary communist movement of our country. 
To spread political-ideological debate inside and outside, our party publish a theoretical magazine "Naya Bitorko" (New Debates), an irregular cultural magazine "Shohojoddha" (Co-Fighter) and a mass political bulletin "GonoJuddha" (Peoples War). Besides these, there are several types of frontal organizations and their political documents.
Marxism teaches us that the society develops through contradiction. Our party also had developed and is developing through two line struggle. Party is developing on the basis of a concrete plan of building up a Peoples War with the aim of establishing Socialism after completing New Democratic revolution. Struggle will continue till the establishment of Socialism and Communism.

- August, 2013